বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, ভোট দেওয়ার আগেই তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে জানতে পারা, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তাঁরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তিনি নির্বাচন কমিশন, ঠাকুরগাঁওয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবশিষ্ট সময়ের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের আগে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয় দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি পেশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কিন্তু এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার দৃশ্যমান হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছিল।

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, একজন নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে চাকরিতে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন—এমন ইঙ্গিত দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো এবং ধানের শীষ প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহারের অভিযোগের ছবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করা, নারী ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকা এবং ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার বিষয়েও উদ্বেগ জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজনীয় ব্যাজ দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে কোনো কোনো কর্মকর্তা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ভোটারকে ব্যালট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিল ও স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা। আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার ফলে জাল ভোটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলেও তাঁরা জানতে পেরেছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাল ভোট প্রতিরোধ ও ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত।

তিনি বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

এস