বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় বাদ দিলে গত চার দশকের মধ্যে সরবরাহ কমার সবচেয়ে বড় ঘটনা হতে পারে এটি।

জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের পাশাপাশি খাদ্যশস্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের কিছু বেশি বাড়বে। ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশের বেশি বাড়লে দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ শতাংশ।

কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের দামও এ বছর ১৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়া খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ ছাড়া ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়ে অতিরিক্ত ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও চরম দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ধাতুর দামও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সরবরাহে বিঘ্ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও তথ্যকেন্দ্রে বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ বছর ধাতুর দাম ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। অন্যদিকে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দাম ৪০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, পণ্যের বাজার একসঙ্গে একাধিক বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বিঘ্ন বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ বাড়তে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি দেশকে ইতিমধ্যে ৮৭০ কোটি ডলারের স্বল্প সুদের ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামালের ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ভোক্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এস