শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, নিহত তাহসিফ তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাঁকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ খবর পায়, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসছে। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল করার সময় তাহসিফের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, তাহসিফ তাঁর সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

যেসব কারণে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ

রিমান্ড আবেদনে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও পরিকল্পনা উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার, তাহসিফের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের সন্ধান এবং হত্যার ঘটনাস্থল চিহ্নিত করার কথা উল্লেখ করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে ওই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

এস