ঘটনার সূত্রপাত ১ অক্টোবর সকালে। মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইট ঢাকায় আসার পর বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে যান।

যদিও বিমানবন্দরে লাগেজ-ট্রলি সংকট থেকে উত্তেজনা, সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাকে হুমকি-লাঞ্ছিত করার অভিযোগ!

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করার সময় আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যান এবং তাকে হুমকি দেন। এ সময় সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয়। তবে নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধারণ হয়নি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে; প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণের কথা বলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সজীব। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজেদুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও আঘাতের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া মানেই কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। রিমান্ড হলো তদন্তের প্রয়োজনে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি। ফলে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অন্যদিকে, ঘটনাটির পেছনে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে বাস্তব অসন্তোষও ছিল বলে মামলার বিবরণে উঠে এসেছে। লাগেজ ও ট্রলি সংকটের পাশাপাশি জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

ফলে পুরো ঘটনার বিচার করতে হলে একদিকে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও সেবার ঘাটতির অভিযোগ, অন্যদিকে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ—দুই দিকই তদন্তে আসা প্রয়োজন। এখন তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাইয়ের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

এমএম