মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে কিং ও ক্যাম্পবেল যোগ করেন ১১২ রান। শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাম্পবেল আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ৪৯ রান করে ফেরেন তিনি।

দলের রান ১২০ হওয়ার সময় দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। হাসান মাহমুদের বাউন্সারে থার্ড ম্যানে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফেরেন ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল। এরপর কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি রান তুলে নেন কিং। ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। হজ অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। শরিফুল ইসলাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেজ। তিনি নেন ৫ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যান পান ৪ উইকেট এবং শামার জোসেফ নেন একটি।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করেছিল। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। ফলে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই লিড বড় করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪২ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সফরকারীদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান চারটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের মধ্যে ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৮৪ বল খেলে ৫৬ রান করেন। অধিনায়ক রস্টন চেজ অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে।

তৃতীয় দিনেও আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা আগেভাগে শেষ হয়েছিল। ওই দিন মোট ৬৩ ওভার খেলা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ম্যাচে সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।

মিরপুরে এই জয়ের ফলে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজে সমতা ফেরাতে পরের টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে।

এস