শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি খেলনা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকরা হলেন- বন্দর বাজার এলাকার মো. শাহীন আহমেদের ছেলে লিমন তোহা (২২) ও স্বপন মোল্লার ছেলে ইয়াসিন মোল্লা (২৩)।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে অস্ত্র দেখা গেছে, সেগুলো আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়। দুটি বন্দুকই খেলনা। টিকটকের ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে ওই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, লিমন ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাননি। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি টিকটক ভিডিও তৈরি করছেন। অপরদিকে, ইয়াসিন ২০২২ সালে এসএসসি পাস করার পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। গত দুই বছর ধরে তিনি টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্প্রতি ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ নগর পার্কের বিভিন্ন স্থানে হাতে লম্বা বন্দুকসদৃশ বস্তু নিয়ে ঘুরছেন। একপর্যায়ে তাদের পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুদের দিকে ওই অস্ত্র তাক করতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের মতো দৃশ্য ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘ভাইবোন’ নামে একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেটি লিমন তোহার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ভিডিওতে অস্ত্রগুলো আসল না হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় আটক দুই তরুণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এমএম