বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ।
বৃষ্টির কারণে নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় এবং কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় যান চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নগরীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের উন্নয়নকাজে যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার অভাবের প্রভাব এখনো নগরবাসীকে ভোগাচ্ছে।
সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না হওয়া এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
হেলথ অফিসার গলির বাসিন্দা হামিদা আক্তার জানান, ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বৃষ্টির পানি বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চরপাড়া মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুরের আবুল বাশার। তিনি বলেন, হাঁটুপানি থাকায় কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করতে অ্যাম্বুলেন্সে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতাল চত্বরেও পানি জমে থাকায় রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সাময়িকভাবে পানি অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, অনেক স্থানে ড্রেনের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এস