সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শূন্য পাস করা ৩১২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে বিদেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর মধ্যেও একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।

সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

শূন্য পাসের তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। এ বোর্ডের ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

এরপর রয়েছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫৭টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এ ছাড়া বিদেশে পরিচালিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানেও কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর ফল

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।

এর মধ্যে- এসএসসি: ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন

দাখিল: ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন

এসএসসি (ভোকেশনাল): ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন

দেশের সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরাও আজ একই সঙ্গে ফল পেয়েছে।

সকাল ১০টায় ফল প্রকাশ

সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজ নিজ বোর্ডের ফল হস্তান্তর করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের জন্য ফলাফল উন্মুক্ত করা হয়।

অনলাইন ও এসএমএসে ফল

শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের ফলাফল দেখতে পারছেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও ফল দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘শূন্য পাস’?

একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ফলাফলের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক সংকট, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানে যদি একাধিক বছর ধরে কেউ পাস না করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শিক্ষা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

৩১২ প্রতিষ্ঠানের ফল নিয়ে আলোচনা

চলতি বছরের ফল প্রকাশের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে শূন্য পাস করা ৩১২ প্রতিষ্ঠান। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি এবং এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কত ছিল—সে তথ্য বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যা খুব কম হলে শূন্য পাসের অর্থ এক রকম, আর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও একজনও পাস না করলে তার তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ফল প্রকাশ করে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সামনে উচ্চশিক্ষার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন দেশের ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও এবার উত্তীর্ণ হতে পারল না?

এমএম