ব্যাংক ও আদালতের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ফেয়ারি শিপিং লাইন্স লিমিটেডের নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখায় বর্তমানে ৬৯ কোটি টাকা মন্দ মানের খেলাপি ঋণ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ভোলা-২ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী মাফরুজা সুলতানা। কোম্পানির মোট ১০ হাজার শেয়ারের মধ্যে তার মালিকানায় রয়েছে ৪ হাজার শেয়ার। অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছেন ড. মুনিয়া মোবারক নিলা, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং একেএম নূর হোসাইন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন একেএম নূর হোসাইন।
হলফনামা নিয়ে বিতর্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হাফিজ ইব্রাহিম। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণ ও খেলাপি ঋণের তথ্য উল্লেখ করেননি।
এ নিয়ে একই আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম নির্বাচন কমিশনে আপিল করে হাফিজ ইব্রাহিমের মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পরিবারের অন্যান্য খেলাপি প্রতিষ্ঠান
হাফিজ ইব্রাহিমের পরিবারের মালিকানায় থাকা আরও দুটি প্রতিষ্ঠানও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ঋণ খেলাপির তালিকায় রয়েছে।
এর একটি হলো ফেয়ারি হোম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, যা ২০১৩ সালে নিবন্ধিত। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ঠিকানা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের মহাখালী শাখায় দুটি ঋণ হিসাবে মোট প্রায় ২৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান শেয়ারহোল্ডারও মাফরুজা সুলতানা।
অন্যদিকে, দ্য টাইমস প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে ১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজ ইব্রাহিমের ছেলে মোহাম্মদ মারুফ ইব্রাহিম (আকাশ)।
সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারের নামে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ খেলাপি রয়েছে।
ব্যাংকের অবস্থান
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধ করছে না। ঋণগুলো বর্তমানে মন্দ মানে শ্রেণিভুক্ত এবং আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মনোনয়ন পরিস্থিতি
গত ৪ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে তথ্যগত ত্রুটির কারণে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এনএইচ