বুধবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মহানগর নাট্য সংসদের দিনব্যাপী ‘জুলাই বিপ্লব নাট্যোৎসব এবং জুলাই বিপ্লবের আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
কলেজ জীবনে দেখা ‘স্পার্টাকাস’ সিনেমার কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সেই স্পার্টাকাস বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে খুব মহান ব্যক্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। যেকোনো লড়াইয়ে আমরা এখনো স্পার্টাকাসের কথা বলি। বাংলাদেশের মতো দেশে স্পার্টাকাসের নাম বেশি জেনেছিল ওই একটা সিনেমার মাধ্যমে। ওই ছবিটি তখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। সম্প্রতি জনপ্রিয় হওয়া সুলতান সোলেমান নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সবাই তার নাম জেনেছে। উসমানি খেলাফতের কথা জেনেছেন অনেকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ইতিহাস বর্ণনা করার জন্য চলচ্চিত্র-নাটকের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ এবং লড়াইয়ের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ- তা এখান থেকেই বোঝা যায়। তবে গান-সংগীত, কবিতা, গল্প-উপন্যাস এগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ইতিহাস অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে নিরস লাগে। তাদের কাছে যদি সংস্কৃতির মাধ্যমে আমরা কাহিনিগুলো পৌঁছাতে পারি, তাহলে এটা জাগ্রত থাকবে সব সময়। ছাত্রজীবনে অনেকেই কিউবার চে গুয়েভারার ছবিযুক্ত টি-শার্ট পরতেন। আমি স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশে আজ থেকে ১০ বা ২০ বছর পর তখনকার প্রজন্ম স্পার্টাকাস বা চের গল্প বলার পরিবর্তে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাস, ওসমান হাদির গল্প বলবে। তারা অন্যান্য শহীদের গল্পও বলবে। বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ এবং ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্ত করার জন্য আনাসরা চিরদিনের জন্য চলে গেছেন। তাদের কাহিনি বর্ণিত হবে- সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমি।
অনুষ্ঠানে শহীদ সৈকতের বোন শ্রাবন্তীর জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি মনে করি, বিচার অবশ্যই হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তার থেকে বড় কথা হচ্ছে, এই শহীদদের স্মরণে রাখা, এই শহীদদের বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ করে নেওয়া। সেটা আমার কাছে বিচারের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিচারটা অবশ্যই হতে হবে, বিচারের জন্য আমরা অবশ্যই লড়াই করব। বিচার করতে আমরা সব সরকারকে বাধ্য করব। বিচার হবে বলে আমি আশাবাদী। কিন্তু ইতিহাসের বিচার আরো মূল্যবান, আরো গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরো বাড়াতে হবে।
জুলাই বিপ্লব নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সিনেমা হওয়া উচিত, অনেক কাহিনী হওয়া উচিত। আমাদের জুলাই বিপ্লবে হাজারো শহীদ রয়েছে। তাদের জীবন নিয়ে সিনেমা হতে পারে। শিশু-কিশোর-তরুণরা জীবন দিয়েছে। আবু সাঈদ যেভাবে দু হাত প্রসারিত করে জীবন দিয়েছে, তা স্পার্টাকাসের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়, বরং অনেকাংশে বেশি। কারণ স্পার্টাকাসের হাতে অস্ত্র ছিল, সে গ্লাডিয়েটর ছিল, তার শক্তি ছিল। কিন্তু আবু সাঈদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, সে নিরস্ত্র অবস্থায় শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করে, ঈমানের শক্তিতে লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে।
আমার দেশ পুনঃপ্রকাশের পর থেকে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিদিন জুলাই বিপ্লব নিয়ে নিউজ করছি। আমরা বিভিন্ন লেখা ছাপছি। আমার দেশ যতদিন থাকবে, এই জুলাই বিপ্লব নিয়ে লড়াই ততদিন চলবে, ইনশাআল্লাহ।
মহানগর নাট্য সংসদের কার্যনির্বাহী সভাপতি মাহবুব মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন অভিনেতা আব্দুল আজিজ, রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দেলোয়ার হোসেন, বাচিকশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরীফ বায়েজিদ মাহমুদ, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির (বিসিএ) সভাপতি আবেদুর রহমান। অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের ওপর তিনটি নাটক মঞ্চায়ন করা হয়। এ সময় দর্শকদের চরিত্রের আবহে বিষাদে ভারাক্রান্তও হতে দেখা যায়।
এমএম