মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে এসএসসি পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের প্রাপ্য সম্মানি না পেয়ে কেন্দ্র সচিবকে অবরুদ্ধ করে পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা অবধি কেন্দ্র সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষকরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে এবার ৯টি স্কুলের মোট ১০৬৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ৫১৫ টাকা ও মানবিক বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর থেকে ৪৮৫ টাকা করে বোর্ড নির্ধারিত কেন্দ্র ফি আদায় করে নয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা কেন্দ্র ফি আদায় করে সাবেক কেন্দ্র সচিব মাহেদুল আলম। এদিকে পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে গত ৩০ এপ্রিল অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমকে কেন্দ্র সচিব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ রাজ্জাকুর রহমানকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নতুন কেন্দ্রসচিবকে আদায়কৃত কেন্দ্র ফি ও আয় ব্যয়ের হিসেব দিতে টালবাহানা শুরু করে সাবেক কেন্দ্র সচিব মোঃ মাহেদুল আলম। কয়েক দফা বলার পরে শেষ পরীক্ষার দিনে যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে মঙ্গলবার সব বিষয়ের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ায় পরে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা সম্মানি চাইলে বর্তমান কেন্দ্র সচিব সম্মানি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সময় চাইলে শিক্ষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে কেন্দ্র সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, আমরা ডিউটি পালন করার পরে সম্মানি পাচ্ছি নাহ।বর্তমান যে ভারপ্রাপ্ত সচিব তাকে বলার পর ১৮ তারিখ পর্যন্ত সময় চাইলো। আমরা জানতে পারছি গত বছর এবং তার আগের বছরেও শিক্ষকদের সম্মানি না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিগত দিনেও এই বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম ৬/৮ মাস ঘুরিয়েও টাকা দেয়নি।আজ আমরা টাকা ছাড়া এখানে থেকে যাবো নাহ।

কোমরগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিনা আনজুম জানান,গত বছর আমরা ৩০ জনের রুমে ২ জন ডিউটি করেছি। কিন্তু এবার ৬০ জনের রুমে ২ জন ডিউটি করেছি, ৯৭ জনের রুমে ৩ জন ডিউটি করেছি। এভাবে আমাদের ওভার ডিউটি করানো হয়েছে। এরকম অবস্থায় আমরা আগে পড়িনি। আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১ টায়। এখন ৪ টা বেজেছে। আমাদের সম্মানি দেয়নি, লাঞ্চের ও ব্যবস্থা করেনি। এভাবে শিক্ষকদের হয়রানির স্বীকার হওয়ার প্রশ্নই আসে নাহ। আমরা তো অন্য কোন টাকা চাইতেছি নাহ। আমাদের ন্যায্য সম্মানি চাই।

এবিষয়ে বর্তমান কেন্দ্র সচিব মোঃ রাজ্জাকুর রহমান জানান, আমাকে উপজেলা থেকে মাধ্যমিক স্যার দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই বারবার কেন্দ্র ফি' এর হিসেবসহ শিক্ষক কর্মচারীর সম্মানি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় চালানোর জন্য টাকা চেয়েছিলাম। সাবেক সচিব মাহেদুল স্যার বারবার সময় দিয়েও আর দেয়নি। আমাকে বলে আপনি সময় নেন শিক্ষকদের কাছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় দায়িত্ব নিয়ে ওনি এগুলো মিটমাট করবে। আজকে শিক্ষকরা মানতেছে নাহ। আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখছে। আমি যতটুকু হিসেব পেয়েছি তাতে শিক্ষকদের সম্মানি দিয়েও টাকা উদ্ধৃত থাকার কথা। ওনি আমাকে হিসেব দেয় নাই। তার মানে ওনি কেন্দ্র ফি এর টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি মাধ্যমিক স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এবিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সাবেক কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মোঃ মাহেদুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করার পরে বর্তমান কেন্দ্র সচিব মোঃ রাজ্জাকুর রহমান এর মুঠোফোন দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ফোন কেটে দেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মমিন মন্ডল জানান,বিষয়টি আমি জেনেছি। কিছু প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র ফি বকেয়া আছে বলে সাবেক সচিব জানিয়েছে। সাবেক সচিবকে সময় দেয়া হয়েছে।এরপরেও শিক্ষক সম্মানি না প্রদান করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনএইচ