ভুক্তভোগী তরুণী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার বলরাম এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত খায়রুল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোরদ কোমরপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর মো. সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি পরিবর্তন হয়ে যায়। আমার স্বামীর বাবা-মা আমাকে পুরো একটি বছর নির্যাতন করে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে তার বাবা-মায়ের কাছে অনেক অনুরোধ করার পরেও তাদের মন গোলেনি আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার ঘণিষ্ঠ বন্ধু খায়রুলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। খায়রুল আমার এই সুযোগ নিয়ে আমার সর্বনাস করেছে। আমি এর সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর খায়রুল ইসলাম ওই তরুণীকে নিয়ে যান বাড্ডার জামান সিএনজি পাম্পের পেছনে জনৈক বাচ্চুর বাসায়। সেখানে নিয়ে তিনি জানান, “কাল সকালে তোমার স্বামীর সঙ্গে দেখা করানো হবে।” সেই আশ্বাসে ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু ওই রাতেই, আনুমানিক রাত ১১টার দিকে বাসায় একা পেয়ে খায়রুল তাকে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। তিনি এতে রাজি না হলে অভিযুক্ত জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন।
আরও জানা যায়, পরে ওই বাসায় অবস্থানকালে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, তার স্বামী মারা গেছেন। এমন সংবাদে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খায়রুল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রাখেন এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেন। যখনই তিনি বিয়ের কথা তুলতেন, অভিযুক্ত সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন ‘আজ করবো, কাল করবো’ বলে। একপর্যায়ে খায়রুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি বিয়ে করবেন না। এরপর হঠাৎ বাসা ছেড়ে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি।
অভিযুক্ত খায়রুল বলেন, আমি ১৬ বছর ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। মামলার দিন আমি টঙ্গীর খামারপাড়ায় একটি কারখানায় কাজ করছিলাম—যার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।
বাড্ডা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মেডিকেল করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
এনএইচ