শুক্রবার জুমার নামাজের পর পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

পলাশবাড়ী ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের উপজেলা শাখা সভাপতি মাওলানা শাহ আলম ফয়েজী, জামায়াত নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তালেব মাস্টার, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খাইরুল ইসলাম চাঁনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময়েও পলাশবাড়ীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো অবনতি ঘটেনি। তারা দাবি করেন, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণ করছে, তা তদন্ত করে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মূর্তি অপসারণ এবং নির্মাণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শুক্রবার সকাল থেকেই পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়, কোমরপুর মোড় এবং হাসবাড়ী এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দুই প্লাটুন বিজিবি, এক প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), ডিবি পুলিশসহ কয়েকশ পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক তদারকিতে ছিলেন রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ মো. তাজুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব পিপিএম এবং পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এমএম`