স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হঠাৎ করে রাংক্ষ্যং নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার সম্পূর্ণ ডুবে গিয়ে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনা ছড়ি, যামু ছড়া, শুক্কর ছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপড়া ছড়া, এগুজ্যা ছড়ি, ঝাংবিল, ফারুয়া বাজার, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইন ছড়ি পাড়া, আকাটা ছড়া ও চংড়াছড়িসহ বেশ কিছু এলাকা। বর্তমানে গৃহহীন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া পাহাড়ী ঢলে রাজাস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয় চর এলাকা ধসে পড়ায় সব ধরনের বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলাজুড়ে খোলা ৫১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গম উপজেলাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে চরম হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। ফলে অনেক এলাকার মানুষকে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

এদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগ দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা স্পিডবোট ও নৌকা যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, ‘পানির তীব্র স্রোতের কারণে এই মুহূর্তে কিছু দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কিছুটা কমলেই দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এস