বন বিভাগ জানায়, শনিবার দুপুরে টেকনাফ রেঞ্জের সদর বিটের শিয়াল্যাঘোনা এলাকার একটি পাহাড় থেকে হাতিটি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পা পিছলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে হাতিটির পেছনের দুই পা, বুক ও পেটে গুরুতর আঘাত লাগে।
খবর পেয়ে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও চিকিৎসায় যুক্ত হন। ক্ষতস্থানে সেলাইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, আহত হাতিটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিরলসভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দ ও হাতির চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি রক্তাক্ত মা হাতিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বন বিভাগের সদস্যরা এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণীটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাতিটি পড়ে থাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বন বিভাগ জানায়, চলমান ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। এতে হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর দুর্ঘটনায় পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
এস