এদিকে বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে এক নারী এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলমান দুর্যোগে জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মুশফিকুর রহিম (১৯ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে প্রবাসী নাছির উদ্দীনের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিশুটির বাড়িতে হাঁটুসমান এবং উঠানে কোমরসমান পানি ছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে পানিতে পড়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে প্রায় ১২০ ফুট দূর থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। তাই শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম (৪০) নিহত হন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন জানান, রাতের খাবার প্রস্তুতের সময় পাহাড়ঘেঁষা রান্নাঘরে অবস্থান করছিলেন রোজিনা বেগম। এ সময় পাহাড়ের মাটি ধসে তিনি চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তার স্বামী সামান্য আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হলেও অনেকেই জীবিকার কারণে আবার পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে ফিরে আসছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় না থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। অতিভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ত্রাণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

এস