কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভার বারেরা এলাকায় গত শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্তদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

অভিযুক্ত মো. সবুজ মিয়া পৌরসভার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে এবং অপর আসামি ইসমাইল হোসেন সবুজের মামাতো ভাই বলে জানা যায়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিতেন সবুজ মিয়া। কিন্তু ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন সবুজ। গত ১০-১২ দিন আগে সবুজ ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে বাড়ি গিয়ে ফোন করতে বলেন, ফোন না করলে মাদরাসায় যাওয়ার পথে ক্ষতি করার ভয় দেখান।

পরে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে রাতে সবুজকে ফোন করলে সবুজ তাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।

এতেও ওই ছাত্রী রাজি হয়নি। পরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সবুজ মিয়া ওই ছাত্রীকে ফোন করে শনিবার সকালে দেবীদ্বার নিউ মার্কেট এলাকায় দেখা করতে বলেন। না করলে ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখান।

পরদিন সকালে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে সেখানে গেলে সবুজ তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিজ বাড়ি বারেরা গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে তার ঘরের একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন সবুজ।

এর কিছুক্ষণ পর তার মামাতো ভাই ইসমাইল হোসেন ওই কক্ষে গিয়ে ওই ছাত্রীকে ফের ধর্ষণ করেন। পরে ওই ছাত্রীকে রাস্তায় তুলে দিয়ে দুজন পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী ওই মাদরাসাছাত্রীর বাবা বলেন, ‘সবুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখাত। সে ও তার মামাতো ভাই আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় আমার মেয়ে নিজে বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছে। ঘটনার পর পর মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানোয় সে ভয়ে আমাদের আর কিছু জানায়নি। মঙ্গলবার সকালে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মেয়ে এই ঘটনা খুলে বলে।’

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বুধবার বিকেলে জানান, অষ্টম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তিন-চার দিন আগের ঘটনা হওয়ায় আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

তবে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এস