সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা সদরের কোর্ট মসজিদের সামনের ময়দানে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও চলমান লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে মাহাদী হাসানসহ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক কোর্ট মসজিদের সামনের ময়দানে জড়ো হন।
কর্মসূচি শুরুর আগে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময় পুলিশ মাহাদী হাসানকে তাদের সঙ্গে থানায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তিনি যেতে অনীহা প্রকাশ করলে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। পরে তাকে সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘নিরাপত্তার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
তবে মাহাদী হাসানকে ঠিক কী কারণে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২১ বছর বয়সী মাহাদী হাসান এর আগেও পুলিশকে হুমকি এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনটির হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ওই বছরের জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অনিয়ম ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সরব থাকার কারণে মাহাদী আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ‘ছাত্রলীগ’ কর্মী হিসেবে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে মাহাদী হাসান তার অনুসারীদের নিয়ে থানায় গিয়ে ওই তরুণকে আটকের কারণ জানতে চান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’-এর প্রসঙ্গ টেনে মাহাদীকে বলতে শোনা যায়, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’
এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি থানার ওসিকে হুমকি দেন এবং পরে আটক তরুণ এনামুল হাসান নয়নকে ছাড়িয়ে নেন— এমন অভিযোগ ওঠে।
পরে ওই ঘটনায় পুলিশ মাহাদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এস