সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরের নির্দিষ্ট সময়সীমায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নিজেদের মধ্যে প্রায় ৮০ বার কথা বলেছেন। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ তার দুটি মোবাইল নম্বর থেকে মুগ্ধর একটি নম্বরে প্রায় ৩০ বার কল করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ কলই ছিল খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের। কয়েকটি কলের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৩, ১৫ ও ১৭ সেকেন্ড। ওই সময়ের মধ্যে তাদের দীর্ঘতম একটি ফোনালাপের স্থায়িত্ব ছিল ৯৬ সেকেন্ড।

ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, তদন্তে পাওয়া কল রেকর্ডের তথ্য মূলত হত্যাকাণ্ডের আগের ও পরের প্রায় ৮০ ঘণ্টার যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সময় দুই আসামির সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের পরিচয় বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না।

তিনি বলেন, দুই আসামির মধ্যে ঘন ঘন ও সংক্ষিপ্ত ফোনালাপের ধরন বিশ্লেষণ করে পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটেনি। এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির বাইরে অন্য কারও সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে শরীরে কোনো ধরনের মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। সেখানে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে বাধা দিলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া যায়। দুই আসামি হত্যার আগে ও পরে ইয়াবা সেবনের কথাও জানিয়েছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

তবে আদালতের নির্দেশে রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের কয়েক দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মামলার দুই আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে তারা ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় আদালত তিন দিনের পরিবর্তে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

ঘটনার পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটির তদন্ত করছেন।

এনএইচ