মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ৯৩৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯২৫ জন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।

অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তিব্বতে নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে শতাধিক নেপালের নাগরিক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত এলাকায় তাদের অন্তত ৮০ নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন) জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের অন্তত ১২টি স্থানে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

সংগঠনটির ধারণা, নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এরই মধ্যে কাদায় পূর্ণ তিনটি টানেল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী।

দুর্যোগের ভয়াবহতায় নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারগুলো। বন্যার দুই দিন পর নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে নেপালে ছুটে যান মারাভাল নাগাপ্পান নামে এক ব্যক্তি।

উদ্ধারকেন্দ্র ও মর্গে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ছেলেকে সর্বশেষ যেখানে দেখা গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও তার কোনো সন্ধান পাননি তিনি।

নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : এপি

এনএইচ