বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা শাহ আলম আকন্দ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদরাসার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী ১০ জন প্রার্থী নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। এদিকে লোক দেখানো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই স্থানীয় আব্দুল মালেকের পুত্র লিটনকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মাদরাসার সুপার ও নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দকে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন সভাপতি মেহেদী হাসান রুশো ও তার লোকজন। একই সঙ্গে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মিজানুর রহমান নামে এক প্রার্থীর আবেদন বাতিল করেন সভাপতি রুশো। এ ঘটনায় কমিটির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৭৩ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দাতা সদস্য হিসেবে মরহুম আলহাজ মসির উদ্দীনের উত্তরাধিকারীরা ৫৩ বছর ধরে কোনো প্রকার নির্বাচন না করেই সিলেকশনের মাধ্যমে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মাদরাসাটির ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ডা. ইসমাঈল হোসেন জানান, ইতিপূর্বে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন হয়নি। সভাপতি আমাকে বলেছেন, এলাকার স্বার্থে আমরা লিটনকে নিয়োগ দেব। লিটনের ২৯ শতক জমি এলাকাবাসী কিনে নিয়ে কবরস্থান বানাবো। সেই জমির বিনিময়ে ১২ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। এলাকার স্বার্থে লিটনকে নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই না টাকার বিনিময়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক।
ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা শাহ আলম আকন্দ জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরে ১০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে নিয়োগ কমিটি একজনের আবেদন বাতিল করেছে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে সভাপতি আমাকে প্রস্তাব দেন—লিটন সামাজিক কবরস্থানে ২৯ শতক জমি দান করবে। তার বিনিময়ে সমাজের পক্ষ থেকে লিটনের নিয়োগ বাবদ ১২ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে। লিটনকেই নিয়োগ দিতে হবে। এটি নিয়ম বহির্ভূত প্রস্তাব। আমরা স্বচ্ছভাবে যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেব।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরিদপুর আব্দুল্যাহ দাখিল মাদরাসার সভাপতি মেহেদী হাসান রুশো নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এখানে শুধুমাত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ১০ জনের মধ্যে ৯ জন প্রার্থী প্রাথমিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে লিটনকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেউ এই কথা বলে থাকলে, তাকে আমার সামনে নিয়ে আসুন। যেহেতু আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন, এজন্য এটির দেখভাল করার দায়িত্ব আমার।
মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম মাহবুবুল ইসলাম জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে একটি গণ্ডগোল হওয়ার কথা শুনেছিলাম। এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনএইচ