বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চক্রপাড়া ইটভাটা মোড় এলাকার আন-নূর মডেল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত ওয়ালিউল্লাহর বাবা নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা এবং মাদরাসায় আগুন দেওয়ার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত ওয়ালিউল্লাহ ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি। অন্যদিকে হামলাকারী সামছুজ্জামান স্বপন (২৯) তিলকপুর কাঁচারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

‎থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ওয়ালিউল্লাহ তার কার্যালয়ে ছিলেন। এ সময় সামছুজ্জামান মাদরাসায় এসে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান। একপর্যায়ে বিদেশ থেকে অনুদান আসার কথা বলে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামছুজ্জামান মাদরাসায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওয়ালিউল্লাহ বাধা দিলে তাকে কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

‎ওয়ালিউল্লাহর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারী সামছুজ্জামানকে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আহত ওয়ালিউল্লাহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওয়ালিউল্লাহ বলেন, আমার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে মাদরাসায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

অন্যদিকে সামছুজ্জামানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তার ছেলে একটি সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ঘটনায় তাকে মারধর করা হয়েছে।

আক্কেলপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হামলাকারীকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস