শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাঈম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ মোট ১৮ জন।
পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি দেয়ালের সঙ্গে নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় থানায় ভাঙচুর করা হয় এবং কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে রিয়াজ ফকিরের পরিবারের দাবি, পুলিশি নির্যাতনের কারণে তিনি আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করেছিলেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, হামলার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ১০ জন নারী ও ৮ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, গুরুতর আঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী এসআই ওমর ফারুক জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৪৩ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও দুই শতাধিক ব্যক্তিকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এমএম