গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর থেকে শনিবার (৬ জুন) ভোররাত পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি বাধা দিলে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। প্রায় দুই দিন সেখানে অবস্থানের পর শনিবার বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।

নওগাঁয় ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়। পরে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি। পরে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়।

মেহেরপুরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ

মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ছয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাধা দেন। ফলে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

পঞ্চগড়ে শূন্যরেখায় ১০ জন

পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যর্থ হয় পুশইনের চেষ্টা

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

শেরপুরে পরিকল্পনা নস্যাৎ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া সীমান্তে ৫ থেকে ৬ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এস