সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, শনিবার সুনামগঞ্জে বিভিন্ন উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, ধর্মপাশার হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩), তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮), দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮)। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকালে চাচার সাথে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হবিবুর রহমান টগার হাওর সংলগ্ন চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান। সেখানে দুপুরের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয় এবং বজ্রপাত হলে হবিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় গুরুতর আহত হবিবুরকে স্থানীয়রা দ্রুত ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে তার মত্যু হয়। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিহত হবিবুর রহমানের বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামে। তিনি উক্ত গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে।
দুপুরে ১টার দিকে একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতের শিকার হয়ে জয়নাল হক (৩৫), তার ছেলে রহমত উল্লাহ (১৩), একই গ্রামের শিখা মনি (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রহমত উল্লাহকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য রহিস মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার তাহিরপুরে বজ্রপাতে একজন মারা গেছেন ও আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতের নাম আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)।
জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে বজ্রপাতে কালা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। দুই সন্তানের পিতা কালা মিয়া একটি হাঁসের খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের নূর মোহাম্মদ (২৪)। তিনি জামলাবাজ গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি জানান, উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে। দুপুর ১টায় কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুর জামাল (২৬) নামে একজন মারা গেছেন ও তোফাজ্জল হোসেন নামে একজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। দুপুরে উপজেলার পাগনার হাওরের করতোলা নামক স্থানে হ্যান্ডট্রলিতে ধান তোলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর জামাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামের আমির আলীর ছেলে। আহত তোফাজ্জল হোসেন (২২) একই গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে এবং তিনি নিহতের চাচাতো ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে হাওরে কাটা ধান ট্রলিতে তোলার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে দুইজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক নুর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত তোফাজ্জল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বন্দে আলী। একই সময়ে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের চাঁন্দবাড়ি গ্রামের প্রাথমিক স্কুল মাঠে বজ্রপাতে দুটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে।
বিস্তারিত আসছে...
এমএম