ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানির নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পর সকালেই ফায়ার্ড হিটারে প্রসেসিং শুরু করা হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় পরিশোধন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত জ্বালানি নির্ধারিত ট্যাঙ্ক ফার্মে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রিফাইনারির জেটিতে অবস্থান করা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও ক্রুড অয়েল খালাসের কাজ চলছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মামুনুর রশীদ খান জানান, ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। সেখান থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় আবারও উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারিগরি সমন্বয়ের কারণে শুরুতে উৎপাদন কিছুটা সীমিত রাখা হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রুড অয়েল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মজুত ফুরিয়ে গেলে পুরো উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে নতুন চালান বাংলাদেশে আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মজুত থাকা ক্রুড অয়েল দিয়ে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিন শোধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। একইসঙ্গে নতুন চালান আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আগামী ২০ মে’র দিকে আরও একটি চালান দেশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ১০ থেকে ১২ মে’র মধ্যে সৌদি আরব থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল লোড হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চালান না এলে আবারও উৎপাদনে বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, কেরোসিন ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব।
উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনএইচ