বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। মুসলমানরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাঁদের সংখ্যা কম হলেও তাঁদের খোঁজখবর রাখা এবং অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন। তাহলে এখন কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হবে, কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ৫০-৬০ বছর আগেও এ অঞ্চলে এমন পরিস্থিতির কথা শোনা যেত না।
দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ কেন নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে না, কেন উপাসনালয়ে পাহারার প্রয়োজন হবে—তা ভেবে দেখা দরকার। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তাহলেই সবাই নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।
ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ ইসলামের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং পরে এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়। সবাইকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক করে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদেরও একইভাবে সচেতন থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা বিশৃঙ্খলা চায় না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্নভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের কোনো ফাঁদে পা না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, রাজনীতি ও নির্বাচনে মতপার্থক্য এবং প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে এক থাকতে হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম, বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।
এস
















