বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে সাংবাদিকদের কাছ থেকে নেওয়া দুটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান। এর আগে তিনি রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার সময় সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম। অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করায় ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধি ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলামও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ভাষ্য, ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে কিল-ঘুষি মারেন এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় সমকাল-এর কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি নয়নকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্টার নিউজের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তিনি ভিডিও ধারণ করলে কয়েকজন তাঁর ওপর চড়াও হন, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে মোমিন ইসলাম ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। সংশ্লিষ্ট নেতার হস্তক্ষেপে তাঁরা মোবাইল ফোন ফেরত পান।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারকেও বক্তব্যের জন্য একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে তাঁরাও ফোন রিসিভ করেননি।
চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস বলেন, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আগে ঘটেনি। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এস
















