পুলিশ তাকে আটক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হলো। এদের মধ্যে নাজিবুল হক রাশেদ শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার মরহুম জয়নাল আবেদীন বহদ্দারের ছোট ছেলে। আর সোলাইমান ওরফে সালমান শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে মাতাল যুবকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নাজিবুল হক রাশেদকে ভাঙা কাঁচের গ্লাস দিয়ে গলায় আঘাত করার পর স্থানীয় জনতা ঘটনায় জড়িত সালমানকে প্রচন্ডভাবে গণপিটুনি দেয়।

যদিও রাশেদ হত্যাকান্ডে জড়িত রাদি ও আনসার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুগতাকিন মাহমুদ সোহেল দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কক্সবাজার থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রাশেদসহ কয়েকজন যুবক বারে বসে মদ পান করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ঝগড়া শুরু করেন। পরে সংঘর্ষে জড়ানো যুবকরা বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনেন।

সুত্র বলছে, নিহত রাশেদের সঙ্গে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় আনসার নামে এক যুবকের সঙ্গে। ওই আনসার পরে রাদি ও সালমানকে ফোন করে ডেকে আনে। তাদের মধ্যে রেনেসাঁ বারের ভেতরেই ঝগড়া লেগে যায়।

তবে, প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র বলছে, যুবকদের মারামারি হলেও এক যুবকের ভাঙা গ্লাসের আঘাতে গলা কেটে যায় নাজিবুল হক রাশেদের। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে হোটেলের নিচে গণপিটুনির শিকার হন সোলাইমান ওরফে সালমান। গণপিটুনির পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে লোহাগড়া এলাকায় পৌঁছলে সালমান মারা যায়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদনবিহীন মদের বারটি চালানো হচ্ছিল। এই ঘটনায় জড়িতদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

তবে, রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক জানান, তাদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নবায়ন করা আছে।

তিনি বলেন, বারে সংঘর্ষে জড়ানো যুবকদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল। কয়েকজনের ছিল না। ঢাকা থেকে গেস্ট এসেছে বলে অনেকেই বারে ঢুকে পড়েছিল।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছিল। সেও মারা গেছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি জানান, নিহত দুইজনই স্থানীয় বাসিন্দা। যে কারণে ঘটনায় জড়িতদের বাসা-বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উত্তেজিত জনতা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এমএম