পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বিজু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান বিজুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু, মালিয়াট ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কাবিরুল ইসলাম নান্নু, পৌর শ্রমিক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক নওশের আলী, শ্রমিক লীগের সদস্য মো. আশরাফুল শেখ, কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক শেখ সৌরভ ওরফে সাদ্দাম, মাসুদ আলী, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক সবুজ হোসেন এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান।
পুলিশ জানায়, মামলার পরপরই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, “মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বাড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএম