বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। এসময় র‍্যাবের ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাবের-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন– রাজবাড়ী মহিষখোলা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে মো. মোমিন মোল্লা (৪০) ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের বাবু বিশ্বাসের ছেলে হাসান আলী বিশ্বাস। তাদের সঙ্গে নিষিদ্ধ সর্বহারা পার্টি মঞ্জু-জাহাঙ্গীর গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের মহিষখোলা মোল্লাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. মোমিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি তৈরি স্টার্লিং সাবমেশিনগান, দুটি ম্যাগাজিন, ২৮ রাউন্ড তাজা গুলি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, মোমিন মোল্লা সৌদি আরবপ্রবাসী। প্রায় এক মাস আগে তিনি দেশে এসেছিলেন এবং আগামী ১৩ আগস্ট তার আবার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্টার্লিং সাবমেশিনগানটি অত্যন্ত বিরল (রেয়ার) ধরনের অস্ত্র বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

একই দিন রাত সোয়া ১০টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের জলিল মেম্বার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসান আলী বিশ্বাস নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার ৩০০ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনের সর্বহারা পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় গ্রেপ্তার ব্যক্তি সর্বহারা পার্টির মঞ্জু-জাহাঙ্গীর গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। ওই গ্রুপের নেতা মঞ্জু-জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দারা বিরক্ত ছিলেন বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে। অস্ত্রগুলোর উৎস, ব্যবহার এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এমএম