মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার অভিযোগে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ যুক্তি শুনেন।
প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য বিচারপতিরা হলেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
মঙ্গলবারও অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করেন ১৯৭২ সালে মামলার এ সার্টিফাইড কপি কে কি জন্য তুলেছিল? কেন তা সে এতদিন ধরে সংগ্রহে রাখল? সে তা আসামী পক্ষকেই বা কিভাবে দিল এ বিষয়ে জেরায় আপনারা কোন প্রশ্ন করেছিলেন?
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ বিষয়ে বিশদ জেরা হয়েছে। আসামি পক্ষের সাফাই সাক্ষীকে এ বিষয়ে জেরা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
'সিতারা বেগমের (মমতাজ বেগমের মা এবং ইব্রাহীম কুট্টির শাশুড়ী) কাছে মামলার এ সার্টিফাইড কপিটি ছিল। আসামী পক্ষের ১৩ নম্বর সাক্ষী মাসুদ সাঈদী জেরায় বলেছেন তার বড়ভাই (রাফিক বিন সাঈদী) সিতারা বেগমের কাছ থেকে এ কপি সংগ্রহ করেছেন'- পড়ে শুনান অ্যাটর্নি জেনারেল।
মাহবুবে আলম বলেন, যদি ধরেও নেই এ ডকুমেন্ট সত্য তাহলে আমার ভিন্ন যুক্তি আছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী অনুযায়ী ইব্রাহীম কুট্টিকে যে পাড়েরহাট হত্যা করা হয়েছে এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ইব্রাহীম কুট্টিকে সাঈদীর উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে '৭১ এর ৮ মে তাকে পাড়েরহাট বাজারে হত্যা করা হয়। অপরদিকে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে দেশ স্বাধীনের পর '৭২ সালে মমতাজ বেগম পিরোজপুরে যে মামলা করেন তাতে মোট ১৩ জনকে আসামী করা হয়। আসামীর তালিকায় সাঈদীর নাম নেই।
মমতাজ বেগমের মামলার এজহারে বলা হয়েছে, '৭১ সালের ১ অক্টোবর ইব্রাহীম কুট্টি নলবুনিয়ায় তার শশুরবাড়ি থাকা অবস্থায় নিহত হয়। ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যার সময় তার শ্যালক সিহাব আলীকেও ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।  
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাস্থল পাড়েরহাট এবং ঘটনা সংঘটনের সময় ১৯৭১ সালেল ৮ মে। অপরদিকে মমতাজ বেগমের মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থল হল নলবুনিয়া এবং ঘটনা সংঘটনের সময় হল ১ অক্টোবর।
ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ এবং মমতাজ বেগমের মামলায় বর্ণিত তথ্যে মিল নেই। শুধু তাই নয়, মমতাজ বেগম সে মামলায় তার স্বামী ও ভাই হত্যার জন্য ১৩ জনকে আসামী করেন। ওই মামলায় সাঈদীর নাম নেই।
পাড়েরহাট ও তার আশপাশের এলাকায় যত হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং অত্যাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রতিটিতে যাদের নাম বারবার এসেছে তাদের সকলেই মমতাজ বেগমের মামলায় আসামী। কিন্তু মমতাজ বেগমের মামলায় ১৩ আসামীর মধ্যে সাঈদীর নাম নেই।
মমতাজ বেগমের মামলার ১৩ আসামী হল দানেশ মোল্লা, আতাহার আলী, আশ্রাব আলী, আব্দুল মান্নান, আইউব আলী, কালাম চৌকিদার, রুহুল আমিন, আব্দুল হাকিম মুন্সি, মমিন উদ্দিন, সেকোন্দার আলী শিকদার, শামসুর রহমান এসআই, মোসলেম মাওলানা।
[b]ঢাকা, জিই, ১১ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]