জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আজ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি।
আজ (১২ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির বেঞ্চে এই শুনানি হবে। এরই মধ্যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ গতকাল খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার মেডিকেল রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়েছেন।
বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, মেডিকেল বোর্ড তার কাছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা শেষে সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বোর্ডের প্রতিবেদনটি ফরোয়ার্ডিংসহ সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
মেডিকেল রিপোর্টে কি সুপারিশ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য নই। সেজন্য আমি বলতে পারব না কি সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, আজকের শুনানিকে কেন্দ্র রেক সুপ্রিম কোর্টে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আপিল বিভাগের এক নাম্বার এজলাস কক্ষে আইনজীবী ও সাংবাদিকদেরকে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে তিন ধাপে তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া অভিযোগ করে বলেন, অনেক আওয়ামিপন্থি আইনজীবী যাদের অ্যাপিলেট ডিভিশনে এনরোলমেন্ট নেই তারা অনায়াসে প্রবেশ করতে পারছে। কিন্তু আমাদেরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এসময় বিএনপিপন্থী বেশকিছু আইনজীবী ওয়ান্ট জাস্টিস জাস্টিস বলে স্লোগান দিচ্ছন।
তিনি আরও বলেন, অ্যাপিলেট ডিভিশনে এনরোলমেন্ট ব্যতীত কোন আইনজীবিকে এজলাস কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে সরকারী বেশকিছু সহকারি আইনজীবী রয়েছে যাদের অ্যাপিলেট ডিভিশন এর এনরোলমেন্ট নেই, তারা প্রবেশ করেছে। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাস কক্ষে এরই মধ্যে ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল (১১ ডিসেম্বর) থেকেই আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই হাইকোর্ট এলাকায় তিনটি মোটর সাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। আদালতের এজলাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন স্তরের তল্লাশি করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, নাশকতার উদ্দেশ্যেই অজ্ঞাত দুর্বত্তরা গতকাল সুপ্রিম কোর্ট এলাকার মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ওই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে আজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কর্তব্যরত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাদিয়া ফারজানা বলেন, এর আগে খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানির দিন আইনজীবীরা আদালতে কী ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন সেটা সবাই দেখেছি। তখন হয়তো অনেক অপরিচিতও আদালতে প্রবেশের সুযোগ নিয়েছিলেন। আজ জামিন শুনানিকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপরিচিত কাউকে কার্ড ছাড়া ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
এমবি





