বুধবার (২২ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং আরও সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বনানী থানায় দায়ের করা মামলায় বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের এমডি মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী ও পরিচালক মো. মোমেনকে অভিযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিস্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে গ্রাহকদের প্লট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা প্রতিশ্রুত প্লট পাননি এবং জমা দেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে আসে, গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সিআইডি অভিযুক্ত ১৭ প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৮২টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা উত্তোলনের তথ্য পায়। এসব অর্থ বিভিন্নভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণও মেলে।

এছাড়া অনুসন্ধানে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া যায়। এসব নথি বিশ্লেষণেও প্রতারণার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং এ ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার অন্য গ্রাহকদেরও শনাক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে আবাসন খাতে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানায় সিআইডি। পাশাপাশি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এমএম