ইদ্রিস শেখ, মকুল শরীফ, ছালাম ও মোস্তফা জামান- এই চার তরুণ ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে পাকিস্তান গিয়েছিলেন।

সেখানে কেউ ব্যবসা করতেন, আবার কেউ সে দেশে বিয়ে করে সংসারি হয়েছিলেন। এমনকি কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরিও করতেন।

এরই ফাঁকে তারা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের লোকদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতেন। এরা সবাই ২০০৭ সালের দিকে দেশে ফিরে জঙ্গি সংগঠন জেএমবিতে নাম লেখান।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও খিলগাঁও থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের ওই চার সদস্যকে আটক করেছে।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যু্গ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ওই চারজন পাকিস্তানে কাদের কাছে, কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তা বিস্তারিত জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ইদ্রিস শেখ দেশে ফিরে আসার পর অসংখ্যবার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছেন।

তিনি একটি হাইকমিশনের এক নারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই অফিসের সঙ্গে ইদ্রিস মোবাইল ফোনে নিয়মিত তথ্য পাচার করতেন।

সেই প্রমাণও গোয়েন্দাদের হাতে আছে।তাদের মোবাইলগুলো স্পাই ফোন হওয়ায় সহজেই ধরা যাচ্ছিল না।তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ইদ্রিস শেখ ছাড়া বাকিরাও একই জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। তারা একত্রিত হয়ে রাজনীতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।তারা দেশের ভেতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য হামলার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ২৬টি জঙ্গিবাদবিষয়ক বই, তিনটি পাসপোর্ট, পাঁচটি মোবাইল, নগদ ৪ হাজার পাকিস্তানি রুপি, ভারতীয় দেড় হাজার রুপি, বাহরাইনের ১ হাজার ৩০০ ডলার এবং জর্ডানের ১ হাজার ৬০০ ডলার উদ্ধার করা হয়।

ইদ্রিসের ব্যাপারে তিনি বলেন, ইদ্রিস শেখ ১৯৮৫ সালে ভারত হয়ে পাকিস্তান যান। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানি নারীকে বিয়ে করেন।

২০০২ সালে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পাক্ মুসলিম অ্যালায়েন্স থেকে জাতীয় নির্বাচন করে পরাজিত হন।

এরপর ২০০৭ সালে ইদ্রিস বাংলাদেশে আসেন এবং বিভিন্ন বেআইনি কার্যক্রমের পাশাপাশি জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

মকবুলের ব্যাপারে যুগ্ম-কমিশনার বলেন, মকবুল শরিফও ১৯৮৫ সালে ভারত হয়ে পাকিস্তানে যান। তিনি নিয়মিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান যাতায়াত করেন।

মকবুল শরিফ পাকিস্তানি কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেন।

ছালাম একজন বিহারি। পাকিস্তানে তার নিয়মিত যাতায়াত আছে। আর মোস্তফা জামান পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের অ্যাসিসটেন্ট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি সদস্যরা জানায়, তারা বাংলাদেশের জেএমবির কার্যক্রম জোরদার করা এবং ঢাকা শহরসহ দেশের যেকোনো স্থানে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমবেত হয়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছে।

জিহাদ পরিচালনার উদ্দেশ্যে অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যাসহ বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিল।

তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় ২টি ও খিলগাঁও থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসএইচ