‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শীর্ষক ওই বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৪৭টি দেশে অন্তত ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০টি দেশ সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখোমুখি, যেখানে বিশ্বের মোট অনাহারক্লিষ্ট মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বসবাস করে।

এই তালিকায় পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের নামও রয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ডিআর কঙ্গো, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। এসব দেশের বেশিরভাগই গৃহযুদ্ধ ও সন্ত্রাসী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অনাহার মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি খাদ্য সংকটকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। একদিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে যা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো চাপের মুখে ফেলছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংক এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট নিয়ে সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটই এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ।

এনএইচ