ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের পক্ষে অধ্যাপক নুর নবী মানিক দাবি জানান, “অনতিবিলম্বে পরামর্শের ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করতে হবে’, ‘বন্দুক ঠেকিয়ে যাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকনা ফেরত দিতে হবে’, ‘ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে’, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে এবং স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকতে হবে’, ‘লুটের অর্থ পুনরুদ্ধারে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে হবে’, ‘ব্যাংক লুটেরাদের বিচার না করে তাদের পুণর্বাসন করার ব্যবস্থার ব্যাংকিং রেজুলেশন আইন ১৮/ক ধারা সংশোধন করতে হবে’, ‘জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য ও ডাকাত এস আলমের হাতে ব্যাংক তুলে দেয়ার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে”।

তিনি বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার যেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলমান সেটি বন্ধ করতে হবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের আমানতের সুরক্ষার নিশ্চিয়তা দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় জড়িত ব্যক্তি ও শেয়ারহোল্ডারদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে ব্যাংকের তারল্য সংকট নিরসন ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, যাদের হাত ধরে ইসলামী ব্যাংক বিশ্ব সেরা ব্যাংক হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে তাদের নেতৃত্ব ব্যতিত ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের উপযোগী কোন পর্ষদ গঠন না করে সমস্যা আরো ঘনিভূত করছে। আমাদের দাবী ছিল এস আলম এর দোসর ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনবর্হাল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি না করে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে পুনরায় একব্যক্তির হাতে পুরো ক্ষমতা তুলে দিয়েছে! যা একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনভাবেই নিরাপদ নয়। তবে কিছুটা স্বস্থির বিষয় যে, লেনদেন সচল রাখার জন্য কিছু ফান্ড সরবরাহ করা হয়েছে এবং গ্রাহকদের দাবির মুখে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে একদিকে যেমন আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে অপরদিকে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকি করে সুশাসন নিশ্চিত করবে। কোন ব্যাংকে অনিয়ম, দূর্নীতি বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরিতাপের বিষয় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকগণ এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের চরম ব্যত্যয় লক্ষ্য করছে। অতীতেও যেমন ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে শেয়ারহোল্ডারদের বাধ্য করে শেয়ার কেড়ে নিয়েছে, তেমনি ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন উপায়ে লোনের নাম দিয়ে অর্থ লোপাট করেছে এবং নিজস্ব লোকবল নিয়োগ দিয়েছে। যা দেখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছিল। কিন্তু মনে হয়েছে সবকিছুই যেন এস আলম ম্যানেজ করে চলেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ এরপর দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পরও ইসলামী ব্যাংকের পরর্ষদ নিয়ে একই আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের ক্ষোভের কারণও বটে। এহেন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের প্রবাসি গ্রাহকগণ বাংলাদেশ ব্যাংকের আচরণে অবাক বিষ্ময় প্রকাশ করেছে। সুতারাং অনতিবিলম্বে আস্থা ফিরিয়ে আনতে উপস্থাপিত ৭ দফা দাবি মূল্যায়ন করতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান।

এনএইচ