সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধন) গাইডলাইন ২০২৬ চূড়ান্তকরণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে কিছু পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করতে চায়নি। আবার অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছিল না। যাদের এনআইডি ছিল না, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে এনআইডি করে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের বাইরে থেকে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। এসব বিষয় ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির বিশেষত্ব হচ্ছে সরাসরি মানুষের বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করা। এ কারণে বিভিন্ন অসঙ্গতি শনাক্ত করা গেছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই নীতিমালা সংশোধন ও আপগ্রেড করা হয়েছে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কোনো পরিবারে স্বামী বিয়ের পর স্ত্রী মারা গেছেন এবং সেখানে দুটি সন্তান রয়েছে, এমন পরিবারও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে কোনো পরিবার বাদ পড়বে না।

কর্মসূচির ত্রুটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল সময়। ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়, ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটি গঠন করা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ১০ মার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে একটি সার্বজনীন ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও সীমিত ছিল।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ত্রুটির হার সবচেয়ে কম, যা ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ত্রুটির হারও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচিতে ভুল, ত্রুটি ও কারসাজির সুযোগ বেশি থাকে। কিন্তু এটি একটি সার্বজনীন কর্মসূচি হওয়ায় কারসাজির সুযোগ নেই। ধর্ম, লিঙ্গ কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাস নির্বিশেষে সব পরিবার এ সুবিধা পাবে।

মন্ত্রী জানান, কর্মসূচির শক্তি ও দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ছয় মাস অন্তর এটি পর্যালোচনা করা হবে। সমাজকল্যাণ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসূচি পর্যালোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চার কোটি মানুষ কবে নাগাদ এই সুবিধার আওতায় আসবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, চার কোটি মানুষ পাবে, চার বছর যেদিন শেষ হবে, সেই দিন চার কোটি পরিবার পাবে।

নীতিমালা কবে প্রকাশ করা হবে? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এপ্রুভ হয়ে গেছে। কাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। তার পরবর্তীতে এটা হয়ে গেলে, আমাদের ওয়েবসাইটে নীতিমালা পাওয়া যাবে। ইট উইল বি এ ওপেন ডকুমেন্ট।

এমএম