বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াবাজার, কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা এবং লাউ পিসপ্রতি ৬০-৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ১০-২০ টাকা কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল। এছাড়া প্রতি কেজি সিম ২০০ টাকা, উস্তা ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, কচুমুখী ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, শসা ৬০-৭০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও জালি কুমড়া মিলছে ৫০ টাকায় এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি।

এক ক্রেতা মো. শাকিল অভিযোগ করে বলেন, “বৃষ্টি হলেই বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অজুহাতে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে।”

অন্যদিকে সবজি বিক্রেতা মো. আল আমিনের দাবি, “আড়তে সরবরাহ কমেছে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।”

এদিকে নিত্যপণ্যের বাজারেও বেড়েছে চাপ। দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ব্র্যান্ডভেদে ৩৮০-৩৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৭৫-৩৮০ টাকা। পাম তেলের লিটারপ্রতি দাম ১৬৮ টাকা, যা আগে ছিল ১৬৫ টাকা। মাঝারি দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০-১৪০ টাকা, ছোট দানার ১৫০-১৬০ টাকা এবং বড় দানার ১০০-১১০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে ছোট দানার মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে।

ক্রেতা নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, “তেলের দাম বাড়াতে সরকার অনুমোদন দেয়নি, তবুও দোকানে এসে দেখি দাম বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে ডালের দামও হু হু করে বাড়ছে।”

মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০-১২০০ টাকায়। এক ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে। মাঝারি ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০০-২৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৭০০-১৮০০ টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ ৭০০-৭৫০ টাকায়। পাশাপাশি রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি কেজিপ্রতি ১০০০ টাকা দরে।

সবমিলিয়ে বৃষ্টির অজুহাতে সরবরাহ সংকটের কথা বললেও বাস্তবে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ততা রয়েছে। তবুও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠছে প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে।

এনএইচ