জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিচালনা পর্ষদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণে বোর্ডের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তবে বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদানসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে, ১০ জন নির্বাচিত পরিচালক সংগঠনের বর্তমান নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। গত ৩০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে অধিকতর পর্যবেক্ষণের জন্য গত ১ আগস্টের এজিএম স্থগিত করে। ফলে সংগঠনে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

অপরদিকে, ১৬ জন নির্বাচিত পরিচালক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়ে বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, দ্বিতীয় বোর্ড সভায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। যদিও সেখানে অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি আকস্মিকভাবে নির্ধারিত হওয়ায় নতুন বোর্ড সভা আহ্বানের সুযোগ ছিল না। ফলে দ্বিতীয় বোর্ড সভার নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে ২ কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়। যেহেতু অনুদান দেওয়ার বিষয়টি মিটিংয়ে পাশ করা ছিল, আর টাকার পরিমাণটা ভাইস প্রেসিডেন্টরা আলোচনা করে নিয়েছেন, এজন্য প্রেসিডেন্টের এই কাজকে কোনোভাবেই অনিয়ম বলা যায় না।

তারা অভিযোগ করেন, অনিয়মের অভিযোগকারীরা বারবার ২ কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয় হওয়ার কথা বললেও একবারও অর্থটি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে- এমনটা বলছেন না। এখানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারী রিহ্যাবের সহসভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস আমার দেশকে বলেন, আমি ওমরা হজ করতে মক্কায় এসেছি। আপাতত রিহ্যাবের বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।

সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ আব্দুল আওয়াল বলেন, সরাসরি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেওয়া ঠিক হয়নি। উনি নতুন প্রেসিডেন্ট, রিহ্যাবের সব তো বুঝে উঠতে পারেননি এখনো। আর আমরা তো উনাকে সরাসরি চার্জ করতে পারতাম। একটা এজিএম হওয়ার কথা ছিল, সেখানে কথা বলা যেত। কিন্তু সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা সব জায়গায় স্বার্থান্বেষী। আমার স্বার্থ পূরণ না হলে বিরুদ্ধে কথা বলছি।

সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্য তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। এতে রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো মতপার্থক্য বা অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে বোর্ডের ভেতরে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত ছিল।

মতপার্থক্য ও অভিযোগের বিষয়ে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। নির্বাচনের পর সবাইকে নিয়েই সংগঠন পরিচালনা শুরু করেছি। গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর চেয়ারম্যান আমাদের অভিযোগকারী ভাই-বোনদের দিয়েই শুরু হয়েছে। আবাসন খাত বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই পারস্পরিক মতপার্থক্য বা ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেই এগিয়ে যেতে হবে।

এমএম