মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের এন আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “যারা স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল, তারা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের মতো বেয়াদবদের সৃষ্টি করেছে। আজ তারা বাংলাদেশে বেয়াদব কণ্ঠ হাজির করেছে। কেউ যদি বলে বাংলাদেশে বিরোধী দল একাধিক, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। বিরোধী দল একটি—সেটি হলো জামায়াত-শিবির।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন যে ছাত্র সংগঠন জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপি নামে এসেছে, তারা জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে একাকার হয়ে গেছে।”

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বাইরে পক্ষ দুটি। একটি জামায়াত-শিবিরের পক্ষ, অন্যটি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী পক্ষ। তারা প্রতিনিয়ত তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে। দেশের মানুষ এখনো ধৈর্য ধরছে। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ এখনো ভাঙেনি, কারণ আমরা রাজনীতি করতে করতে এখানে এসেছি।”

তিনি বলেন, “বিএনপির রাজনীতি শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে। এটি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল, যার নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও নিয়ম রয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো কেউ অশালীন ও রুচিহীন ভাষায় কথা বলার সুযোগ বিএনপিতে নেই। তারেক রহমান এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন।”

এ্যানি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর তারা শুধু জুলাইকে বিভক্ত করেনি, বাংলাদেশ ও দেশের রাজনীতিকেও বিভক্ত করেছে। তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে। ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরে আমাদের সামনে থেকে কৃষকদল নেতা সজীবকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন তারা কোথায় ছিল? ১৭ বছর কোথায় ছিল? তারা ৫ আগস্টের পরের জুলাইযোদ্ধা। এটা শুধু লক্ষ্মীপুরের চিত্র নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র।”

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ বেপারী ও লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনসহ অনেকে।

এমএম