জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) রাত ১০ টার পরে ছাত্রীদের হলে প্রবেশের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরেও ১৯৯৬ সালের আইন বহাল রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার রাতে ভিসির বাসভবনে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে হল প্রভোস্ট কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এছাড়া ছাত্রীদের হলে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতির বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিধিনিষেধ সম্পর্কে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এখনো আগের আইন বহাল রয়েছে কোনোরকম শিথিল হয়নি। তবে ছাত্রীরা প্রয়োজনে হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাইরে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আগের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে তবে যৌক্তিক কারণে কোনো শিক্ষার্থীর বাইরে আসতে দেরী হলে সেটি বিবেচনা করা হবে, যেটা আগেও করা হত।

গত ৭ ডিসেম্বর জাহানারা ইমাম হলে ছাত্রীদের রাত ১০ টার পর হলে প্রবেশে ও বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি লাগবে বলে বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানো হয়। কিন্তু এই নিয়মের প্রতিবাদে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

জানা যায়, গত রোববার জাহানারা ইমাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার রায় স্বাক্ষরিত এক লিখিত আদেশে রাত ১০ টার পর ছাত্রীদের হলে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

তবে এ নিয়মগুলো নতুন কোনো নিয়ম নয় বরং আগে থেকেই ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহেদুর রশিদ বলেন, রাত ১০ টার মধ্যে ছাত্রীদের হলে প্রবেশের নিয়ম নতুন নয়। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মগুলো বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নারী হলগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার নিয়মকে নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই নীতিকে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'শিক্ষক মঞ্চ'।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সূর্যাস্তের সময় হলে প্রবেশ সংক্রান্ত ‘সান্ধ্য আইন’করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হলে প্রবেশের সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা নির্ধারণ করা হয়।

সম্প্রতি জাহানারা ইমাম হলে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করলে এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

কেএইচ