ঢাকা কলেজে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বেড়ে ওঠার গল্প নিয়ে ভিডিও প্রদর্শনী ও একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাস নাহিদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্লা। অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আই’র সৌজন্যে হয়।
শুরুতে শিক্ষামন্ত্রীর বেড়ে উঠা নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
১৯৪৫ সালে ৫ জুলাই সিলেটের বিয়ানিবাজার উপজেলায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাস নাহিদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিয়ানীবাজার পঞ্চখন্ড হরগোবিন্দ হাইস্কুল, সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে ষাটের দশকের শুরুতে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসেবে। "বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের" প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও "ছাত্র ইউনিয়নের" সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়াও, এই বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে ৭ম ও ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা (সিলেট-৬) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৬ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর লেখা ‘বাঙালি রুখে দাঁড়াও’ (২০০৬), ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, লক্ষ্য ও সংগ্রাম’ (২০০৭), ‘রাজনীতির সুস্থধারা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম’ (২০০৯), ‘শিক্ষানীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ (২০০৯), বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতন্ত্রের পথ পরিক্রমা (২০১০) সালে প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য বহু বিষয়ে বিশ্লেষণমূলক কয়েক শ’ নিবন্ধন বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন।
শিক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা ও অবদানের জন্য ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস’ ২০১২ সালে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে ‘পরিবর্তনের অগ্রদূত’ আখ্যায়িত করে শিক্ষার অসামান্য অবদানের জন্য ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়।
ভিডিও প্রদর্শনীর পরে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্লা সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখেন।বিশেষ অতিথিদের সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর, একক বক্তৃতা রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আধুনিক উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে যাতে তারা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে দিতে পারে এবং জগতের সকল তরুণের সাথে প্রতিযোগিতায়, মেধায়, প্রযুক্তিতে, দক্ষতায় এগিয়ে দিতে পারে, তবেই সম্ভব আমাদের মর্যাদা আমাদের ইজ্জত আমাদের জনগণের প্রকৃত মুক্তি অর্জন করা।”
বক্তৃতা শেষে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নউত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সর্বশেষ চ্যানেল আই এর সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তফা মল্লিক এর সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মানছুরুল/এমবি





