কঠিন দরিদ্রতার মধ্যেও লেখাপড়া করে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন পঞ্চগড়ের আফরোজা আক্তার। সে সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুর বোর্ডের অধিনে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

আফরোজা পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘি ইউনিয়নের দফাদারপাড়া গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর আব্দুস সাত্তারের তৃতীয় কন্যা। সে ছাড়াও আব্দুস সাত্তারের সংসারে আরও ৪ জন সন্তান রয়েছে। দিনমজুর করে যা আয় হয় তা দিয়েই কোন মতে চলে তার সংসার। সম্পদ বলতে কেবল বাড়ি ভিটেটুকু। তিনি বর্তমানে বৃদ্ধ হয়ে হয়ে গেছেন। আগের মতো আর পরিশ্রম করতে পারেন না। তবুও ৫ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছেন।

পাঁচ সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার দৃষ্টান্ত এরূপ অযপাড়া গাঁয়ে বিরল। বড় মেয়ে শাহনাজ আক্তারকে এইচএসসি পাস করার পর বিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করছে। চতুর্থ মেয়ে সারমিন আক্তার ও ছোট ছেলে মাসুম গলেহাহাট ফাজিল মাদ্রাসায় অষ্টম ও তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

দিন আনে দিন খায় এমন পরিবারে ৫ সন্তানকে লেখাপড়া করানোয় খুবই সমস্যায় পড়ে গেছেন বাবা আব্দুস সাত্তার। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগার করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। যা আয় হয় তা চাল আনতেই ফুরিয়ে যায়। তাই ছেলেমেয়েদের কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয়।

ভালো ফলাফল করার অনুভূতি জানতে চাইলে আফরোজা বলেন, আমি জিপিএ-৫ পাওয়াতে খুবই আনন্দিত। বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। আমার চেষ্টাই আমাকে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে। আমার স্যারেরাও আমাকে পাঠদানে সহায়তা করেছেন। ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিবো। কিন্তু আর্থিক অভাবের কারণে তা আর হলো না। কোথাও ভর্তি হতে পারবো কিনা জানিনা।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মণিশঙ্কর দাশগুপ্ত বলেন, আফরোজা খুবই মেধাবী ছাত্রী। সে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আফরোজার কষ্ট করে ভালো ফলাফল করা অন্যদের কাছে দৃষ্টান্ত হতে পারে।

আফরোজার বাবা আব্দুস সাত্তার কান্নাজরিত কণ্ঠে বলেন, মেয়ের ভালো ফলাফলে আমি খুবই খুশি। আফরোজা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। আমি তার যাতায়াত ভাড়ার টাকাও দিতে পারি না। তাই নিয়মিত কলেজে যেতে পারতো না।

আফরোজার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করবে। এতো ভালো ফলাফল করার পরও আফরোজার উচ্চ শিক্ষা আজ অনিশ্চয়তার পথে। তার সকল স্বপ্ন যেন আজ মরিচিকা। একটু সহায়তা-ও সহানুভূতিই পারে আফরোজাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে।

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর