এক শিক্ষার্থীকে হলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভন দিয়ে শিক্ষার্থীকে হলে ডেকে নেয়া হয়।

এরপর তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আরও টাকা দাবি করে ওই ছাত্রলীগ নেতা। বিষয়টি শিক্ষার্থীর মামা জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবহিত করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে হল থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এর আগেই ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

ভিকটিমের নাম আনোয়ার পারভেজ। সে রাজধানীর সিটি কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আর মুক্তিপণ দাবিকারী হল অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান শুভ। সে হলের রফিক ভবনের ৩০৭নং কক্ষে থাকে এবং একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জাব্বার রাজের অনুসারী।

ভিকটিম আনোয়ার জানায়, তাকে অমর একুশে হলের ৩০৬নং কক্ষে আটকে রাখা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে ভর্তির বিষয়ে চুক্তি করতে বুধবার দুপুরে শুভর কাছে যায় সে। হলের রুমে যেতেই তার সঙ্গে থাকা ২০ হাজারের মতো টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় শুভ।

এরপর আরও টাকা দাবি করে বলা হয়, টাকা না দিলে ছাড়া হবে না। এ সময় শুভ ছাড়াও ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন ছিল। অবশ্য আনোয়ারের মামা মো. মিজানুর রহমান ঘটনার বর্ণনায় হলের ২০৩নং কক্ষের কথা উল্লেখ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কক্ষটিতে থাকেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক তাশফিক আহমেদ লিমন। সে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক এবং হল শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

মিজানুর রহমান জানান, ‘শুভ সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দিতে পারবে- এমন কথা বলে আনোয়ারকে হলে ডেকে নিয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে কথা অনুযায়ী হলে গেলে আনোয়ারের সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা (কলেজে ভর্তির জন্য বাসা থেকে নেয়া) ও একটি শাওমি মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় শুভ।

এরপর আরও টাকা দাবি করে সে। না দিলে আটকে রাখবে এমন হুমকি দেয় সে। জানতে পেরে বিষয়টি প্রক্টর স্যারকে জানাই। এরপরই তিনি হলে অভিযান চালান। কিন্তু এর আগেভাগেই ওরা পালিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ার উদ্ধার হয়।’

হল ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, এর আগেও শুভর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে। হলের এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সে। তার রয়েছে কোটি টাকার বাণিজ্য। শুভ দামি বাইক চালায়।’ এ বিষয়ে জানতে হল ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জাব্বার রাজকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এমএনজে