গত দশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলাফল হয়েছে মাদ্রাসা বোর্ডে। এ বছর দাখিল পরিক্ষায় পাসের হার ৭৬ দশমিক ২০। জিপিএ--ফাইভ পেয়েছে দুই হাজার ৬১০ শিক্ষার্থী। যা গত দশ বছরে সর্বনিম্ন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৪ জন। এদের মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯১ জন। যা গতবারের চেয়ে ২৪ হাজার ২৬৩ জন শিক্ষার্থী কম। 

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৮ সালে দাখিল পরিক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২শতাংশ, ২০০৯ সালে ছিল ৮৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ২০১০ সালে ছিল ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১১ সালে ছিল ৮৩ দশমিক ২৩ শতাংশ, ২০১২ সালে ছিল ৯১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০১৩ সালে ছিল ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৮ দশমিক ২২ শতাংশ, ২০১৭ সালে এসে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশে। 

একইভাবে কমেছে জিপিএ ফাইভ

দাখিল পরিক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাপ্তির সংখ্যা অনেকটা হতাশাজনক। এবার জিপিএ ফাইভ পেয়েছে মাত্র ২২১০ জন শিক্ষার্থী। যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্ব নিম্ন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২০১০ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছিল- ২০ হাজার ৭৫৫ জন। ২০১১ সালে একবারে জিপিএ-৫ সংখ্যা নেমে আসে ১২ হাজার ৭৫৬ জনে, ২০১৩ সালে এ সংখ্যাটা ছিল ৯ হাজার ৬৭৩ জন, ২০১২ সালে ছিল ১৩ হাজার ৪৩৬ জন, ২০১৪ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১৩ জন, ২০১৫ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৩৩৮ জন, ২০১৬ সালে জিপিএ ৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ৮৯৫ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হারে এমন ধ্বস নামাতে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যেখানে এসএসসিসহ সমমানের অন্যান্য ক্ষেত্রে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে সেখানে মাদ্রাসায় কেন এমন বিপর্যয় সে প্রশ্নও অনেকের। 

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ এর ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য হয়ে থাকলেও মাদ্রাসার বিষয়টি ছিল একেবারে ভিন্ন। এখানে বিগত ৭ বছরের ব্যবধানে জিপিয়ে ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা প্রায় দশ ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। এটা কাকতালীয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে কোন গভীর চক্রান্ত সে প্রশ্নও অনেকের।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত গণিত ও ইংরেজিতে খারাপ করায় জিপিএ ৫ ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি কুমিল্লা বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কথা উল্লেখ করে বলেন, এমন বিপর্যয় হতেই পারে। এর মানে তাই এটা নয় যে মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে বিমুখ করা হচ্ছে বা শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাবে।

কেবি