বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা ইস্টার্ন কলেজে ঈদ পুনর্মিলণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে দক্ষিণ বনশ্রীর বি ব্লকে কলেজের নিজ ক্যাম্পাসে ‘ঈদ পুনর্মিলণী ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ঢাকা ইস্টার্ন কলেজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রইস উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: আনিসুর রহমান আনিস।

প্রফেসর এস এম নেছার উদ্দিন মাহমুদেরে উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বনশ্রী প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি এম কে আলম মৃধা, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার, মো: খোরশেদ আলম, মো: হানিফ, আবুল কাসেম বকাউল, আব্দুর রউফ, জাকির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর রবিউল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ।

এছাড়াও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আকবর আলীসহ কলেজ কমিটির পরিচালকবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবকগণ ও কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বলেন, নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা সবার জন্য আবশ্যক উল্লেখ করে বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা অর্জন করলে চলবে না ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সকলকেই নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে।

ইস্টার্ন কলেজ কর্তৃপক্ষ রাতের অন্ধকারেও শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের সার্বক্ষণিক তত্তাবধায়ন করায় কলেজের শিক্ষার্থী ইর্ষাণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাদকতাই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ উল্লেখ করে অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আপনাদের সন্তানদের মাদকতার হাত থেকে রক্ষা করতে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখবেন। তবেই নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হবে।

আমি চাঁদাবাজের সাথে কখনো আপোষ করি নাই ভবিষ্যতেও করব না। কলেজের উন্নয়নে তার পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

স্বাগত বক্তব্যে কলেজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইস্টার্ন কলেজ দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। একটি সমাজের রূপ কি হবে তা নির্ধারণ করে ওই সমাজের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর।

সামাজিক অবক্ষায় ও যুব সমাজকে অধ:পতনের হাত থেকে বাঁচাতে নৈতিক শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। আর এই নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ইস্টার্ন কলেজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর রবিউল ইসলাম বলেন, অনৈতিক শিক্ষা সমাজকে কলুষিত করে আর নৈতিক শিক্ষা সমাজকে সুশোভিত করে।

ইস্টার্ন কলেজ ভাল ফলাফলের পাশাপাশি সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলা ও মানসম্মত শিক্ষা বিকাশে কাজ করছে। দক্ষ শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের তত্তাবধায়ন করা হচ্ছে।

যার ফলোশ্রুতিতে বিগত কয়েক বছরে কলেজটি শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি পূর্বের ন্যায় ভবিষ্যতেও অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সসযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ইস্টার্ন কলেজ নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ইস্টার্ন কলেজ শতভাগ কৃতিত্বের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

লেখাপড়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধুলায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিগত বছরগুলোর ফলাফলই এর স্বাক্ষ্যর বহন করে।

আধুনিক মানসম্মত, ভবিষ্যৎ ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সরকারের ভিশন-২১ বাস্তবায়নে এ প্রতিষ্ঠানটি অবদান রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন বক্তারা। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া নৈতিক শিক্ষা অর্জন কোনভাবেই সম্ভব না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এসএইচ