ছায়া সুনিবিড় বিশাল ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মনোরম।সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির বুকে দিগন্তজোড়া মাঠ।
ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংগ্রামে সমৃদ্ধ। আছে পড়ালেখার চাপ। কমতি নেই শিক্ষার্থীদের আড্ডার। গানবাজনার সঙ্গে পাখপাখালির কিচিরমিচির। মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদীদের আওয়াজ ভাসে মিছিল-স্লোগানে।
সব মিলিয়ে সারাক্ষণ প্রাণোচ্ছল উত্তরের অক্সফোর্ডখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশাল এই ক্যাম্পাসজুড়ে অজস্র গাছপালায় সুশোভিত সবুজ প্রাঙ্গণ।
যেন এক প্রাকৃতিক নিসর্গ। চারদিকে সবুজের সমারোহের মধ্যে যেন গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে অনিন্দ্যসুন্দর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।
১২ অক্টোবর ২০০৮ সালের রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি রংপুর বিভাগের একমাত্র পুর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে ২০০৯ সালে নারী জাগরনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মরণে নাম পরিবর্তিত হয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
রংপুর বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য অবদান রাখছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদের অর্ন্তভুক্ত ২১টি বিভাগে প্রায় সারে ৯ হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে।
স্থাপত্য সমুহের মধ্য রয়েছে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ মিনার। খাওয়ার জন্য ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার জন্য মনোরম পরিবেশে একটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরিসহ ক্লাসের জন্য ৪টি একাডেমিক ভবনের পাশাপাশি গবেষণার জন্য রয়েছে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
যদিও তা গবেষণার জন্য এখনো উন্মুক্ত করা হয়নি। ছেলেদের থাকার জন্য রয়েছে দুটি আবাসিক হল এবং মেয়েদের জন্য একটি।
ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য চারটি ফটক রয়েছে। যেগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্টে রয়েছে আলাদা আলাদা নাম।
১নং গেট দিয়ে প্রবেশের সাথেই ডানে রয়েছে স্বাধীনতা স্তম্ভ সাথেই শহীদ মিনার এবং বামে চোখ রাখলেই দেখা যাবে একাডেমিক ভবন। এই রোডটি দেবদারু রোড নামে পরিচিত।
সমস্ত রাস্তা জুরে দেবদারু গাছ থাকায় এই রোডটির নাম করন করা হয়েছে দেবদারু রোড। এই রোড ধরে সোজা হাটলে প্রশাসনিক ভবন যার কোল ঘেষেই রয়েছে ক্যাফেটেরিয়া এবং আরেকটু হাটলে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি যার সাথেই ছেলেদের আবাসিক হল।
এবার আসি ২নং গেটে যেটার প্রবেশের শুরুতেই রয়েছে পুলিশ ফাড়িঁ।ফাড়িঁ পাশেই খেলার জন্য রয়েছে সু-বিশাল মাঠ । এ রাস্তা ধরে সোজা হাটলে দেখা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন রাখার জায়গা।
আরেকটু সামনে হাটলেই সেন্ট্রাল মসজিদ এবং শিক্ষকদের থাকার জন্য ডরমেটরি এবং বামে হাটলেই বকুলতলা রোড অতিক্রম করেই ছাত্রীদের থাকার জন্য আবাসিক ব্যবস্থা।
সংস্কৃতি অঙ্গন মাতাতে রয়েছে গুনগুন, রনন, উদীচী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি ও ইংলিশ কালচার সোসাইটি (ইসিএস) এর মত নামকরা সাংস্কৃতিক গোষ্টি।
আরও রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বেরোবিসাস)। ক্যাম্পাস ঘুরে কথা বলেছিলাম বেশকয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে। কেউ তখন আড্ডায় মগ্ন চলছে হাসাহাসি খুনসুটি আবার অনেকেরেই ক্লাসের তাড়া।
বাংলা বিভাগে অধ্যায়নরত ১ম বর্ষের ছাত্রী সিফাত আনজুম লাবণ্য বলেন, আমি ক্যাম্পাসে তেমন একটা ঘোরাঘুরি করিনা তবে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অনেক ভাল। চারিদিকে গাছ আর সবুজ ঘাসে যেন সবুজের বিছানা পাতানো।
মন খারাপ থাকলেই ক্যাম্পাসে চলে আসি তখন অনেক ভালো লাগে।ভাবতেই খারাপ লাগছে একদিন এ ক্যাম্পাস ছেরে চলে যেতে হবে ।
ক্যাম্পাসের খোলামেলা পরিবেশ অনেক ভাল লাগে। বিশেষ করে কৃষ্ণচূরা রোড যখন কৃষ্ণচূরা ফুল ফোটে আর বকুলতলা রোডের কথা না বললেই নয় বকুল ফুলের গন্ধে প্রাণটা ভরে যায়। লোক-প্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বিপুল এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন তার ভাল লাগা গুলো।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন দেখে তারা এখান থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন শেষে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
সবুজের বিশাল সমারোহ আর ক্যাম্পাসের বড় বড় ভবন সব মিলিয়ে পাখির চোখে এই ক্যাম্পাসটি যেন দারিয়ে থাকা একটি বৃক্ষের মত।
ইভান/মাহমুদ





