শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির মাঠে ‘অদম্য-১৮’ ফুটসাল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন উপাচার্য। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

তৎকালীন এক অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিজেন্ট বোর্ডের নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১-এর ধারা ১১(১২) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন, ছায়া সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একাধিকবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাতে সাড়া দেয়নি।

তবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় ছাত্রদল বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রকাশ্যে অংশ নিলেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রয়োগ নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফুল হক তমাল বলেন, ‘ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি সংগঠন টিকে থাকে মূলত শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে। যে কোনো একটি পক্ষ বিমুখ হলেই সেই সংগঠনের গতি থেমে যায় বলে মনে করি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক কিংবা ক্যারিয়ার উন্নয়ন সংগঠনের আয়োজিত প্রোগ্রামগুলোতে প্রশাসনের অনীহা বরাবরই চোখে পড়ার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব প্রোগ্রামে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানিয়েও ভিসি, প্রো-ভিসি কিংবা ট্রেজারার স্যারের দেখা তো দূরের কথা, শুভেচ্ছাবার্তাও পাওয়া যায় না, যদি না সেই প্রোগ্রামের একটা বড় বাজেট থাকে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রশাসন রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আবার তারাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উদ্বোধন করছেন। এর চেয়ে হাস্যরসাত্মক আর কিছু হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ন্যূনতম লজ্জা থাকলে তারা এ ধরনের দ্বিমুখী আচরণ করত না।’

রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা ক্যাম্পাসে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

‘অদম্য-১৮’ ফুটসাল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মুজাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কে. এম. তরিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান তাফহীমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. অলিভ, দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল হক ও প্রচার সম্পাদক মো. রুমেল হোসেনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এস