শারীরিক প্রতিবন্ধীতাকে হার মানিয়ে অসীম ইচ্ছাশক্তি ও অদ্যম অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর বৃত্তি অর্জন করেছে শারীরিক প্রতিবন্ধী বিউটি খাতুন।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আকলাশ শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৮৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শুধু বিউটি এই স্কলারশিপ অর্জন করেছে।
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলে মেধাবী ছাত্রী বিউটির কৃতিত্ব সম্পর্কে জানা যায়।
বিউটির বাড়ি ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামে। পিতা বায়োজিদ প্রামাণিক, পেশায় ভ্যান চালক। মা রহিমা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান বিউটি খাতুন। বিউটি ছিল ছোট বেলা থেকেই মেধাবী, হাত না থাকলেও লেখা থেকে শুরু করে সব কাজই পা দিয়ে দিয়ে করতো সে। নিজের প্রচেষ্টায় মা-বাবার অনুপ্রেরণায় শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিউটিকে আগ্রহী করে তুলেছে, আর সে জন্যই জেএসসিতে জিপিএ-৫ ও স্কলারশিপ অর্জন করেছে বিউটি।
বিউটির মা রহিমা বেগম জানান, প্রতিবন্ধী অবস্থায় বিউটির জন্ম হওয়ায় আমার কাছে বড় বোঝা মনে হতো। কিন্তু বিউটির ভালো লেখাপড়া করায় এবং ভালো রেজাল্ট হওয়ায় সবার কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়ে আমি খুবই খুশি।
শিবপুর শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকামদ্দীন আকন্দ জানান, বিউটি আমাদের স্কুলের নাম উজ্জল করেছে। হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে বিউটি একের পর এক কৃতিত্ব অর্জন করে যাচ্ছে।
বিউটি জানান, তিনি একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে হয়েও দেশের মানুষকে জানিয়ে দিতে চায় কোনো বাধাই শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে প্রতিবন্ধীদের সেবা করতে চায়। এদিকে বিউটির স্কলারশিপ অর্জন করায় তার গ্রামের মানুষের মধ্যেও আনন্দ বিরাজ করছে।
কেএইচ





